অ্যামেরিকায় ৯/১১ থেকে ইজরাইলে ১০/৭ : আবেগের আনন্দ নয় বিবেকের বিবেচনা চাই
.
এক মাসও হয়নি চলে গেল ৯/১১ দিবস। এই দিবসকে কেন্দ্র করে দেখলাম অনেকে ঐ অভিযান সহ উম্মতের শার্দূলদের এই টাইপের অভিযানের বিরুদ্ধে কলম ধরেছে। তাদের সমালোচনার মূল পয়েন্ট ছিল- ফিকাহের সামরিক-বেসামরিকের মাসআলা। এই অভিযান সমূহে নিহতরা যে শরয়ী পরিভাষায় ‘হারবী’। এবং তারা সামরিক কাজে প্রত্যক্ষ জড়িত না থাকলেও তাদের দম হালাল এটা তারা মানতে নারাজ। যা বেশ অবাক করা বিষয় ছিল। কারণ, তারা শরয়ী পরিভাষা শরিয়তের মাপকাঠিতে না মেপে জাতিসংঘের বেঁধে দেয়া উসূলে মেপেছে।
ফিলিস্তিনের সংবাদ পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল এ জয়েন করুন :- লিংক @heartofloveoficial
.
কিন্তু আরও অবাক হলাম, এই লোকেরাই এখন যখন হামাসের অভিযানে নিজেদের আনন্দ ও আবেগ প্রকাশ করছে। এর সমর্থনে পোস্টের পর পোস্ট করে যাচ্ছে। দেখলাম, এক “আলেম” এই অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে তাকে তুলোধুনো করছে। এই অবস্থা দেখে আমার মনে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যা এই আনন্দের মুহূর্তেও আপনাদের সামনে না রেখে পারলাম না-
[ad1]
.
২। অ্যামেরিকা যদি এমন উলঙ্গ সমর্থন ও সাহায্য না করত ইয়াহুদি রাষ্ট্র কয়দিন টিকে থাকত? টিকে থাকার কোন যোগ্যতা তাদের ছিল?!
.
৩। ‘অ্যামেরিকা পূর্ণ শক্তিতে বলিয়ান থাকবে আর আমরা ইয়াহুদিদের হাত থেকে বাইতুল মাকদিস মুক্ত ও নিরাপদ করে ফেলব’ এটি কি বাস্তব সম্মত কোন বিষয়? সুস্থ বিবেক সম্পূর্ণ কেউ এমন ভাবতে পারে?
.
৪। অ্যামেরিকার অপরাধ কি শুধু এই একটাই ছিল নাকি এর তালিকা অনেক দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ।
[ad2]
৫। বাইতুল মাকদিস মুক্ত করার বাস্তব পরিকল্পনা নিয়ে এবং তার ঘোষণা দিয়েই আল্লাহর শার্দূলরা অ্যামেরিকাকে দুর্বল করতে সেই অভিযানগুলো শুরু করেনি কি? তোরাবোরার পদদেশ থেকে সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা কার অজানা?!
.
৬। আজ আপনি হামাসের বিজয়ে খুশি হচ্ছেন, মাশাআল্লাহ। কিন্তু যে অভিযানগুলো আজকের এই পরিস্থিতির পটভূমি ছিল। শত্রুকে দুর্বল করতে, বৈশ্বিক পাওয়ারে ভারসাম্য আনতে, ইজরাইলের প্রতিষ্ঠা ও রক্ষাকারীদের মোড়লগিরি শেষ করতে যার সূচনা হয়েছিল, সেগুলোর বিরোধিতা করছেন কোন যুক্তিতে?
.
৭। একটু চোখ খুলে দেখুন, কখন রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযানের সাহস পেল? কখন মধ্যপ্রাচ্য অ্যামেরিকাকে ও তাদের প্রভাবকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাল? কখন আফ্রিকা থেকে ক্রুসেডারদের তল্পিতল্পা গোটাতে হল? এগুলো কি এমনি এমনি হচ্ছে? কোন ফাঁদে পড়ে আজ তাদের এই অবস্থা? এই ফাঁদ বা কৌশলের প্রণেতা কারা ছিল? ওদের মতই মুসলিমদের অন্য কোন শত্রু নাকি উম্মাহর শ্রেষ্ঠ সন্তানরা? নাকি এখানেও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আওড়াবেন? নিজেদের বিবেক না থাকলে, উম্মতের শার্দূলদের মতের উপর আস্থা না থাকলে, কমপক্ষে পশ্চিমা নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মতের দিকে তো তাকান!
.
৮। অ্যামেরিকার শক্তি ও মোড়লগিরি যত কমে যাচ্ছে, বিশ্ব রাজনীতিতে যত ভারসাম্য আসছে বাইতুল মাকদিস বিজয়ের সময় ও পরিস্থিতি তত ঘনিয়ে আসছেনা কি?
৯। বলবেন, ‘ঐ অভিযানগুলোর প্রেক্ষিতে শত্রু যে রিঅ্যাক্ট দেখিয়েছে তাতে উম্মতকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে, অনেক রক্ত ঝরাতে হয়েছে’। মূল্য দেয়া ছাড়া, রক্ত ঝরান ছাড়া আপনি দ্বীনের বিজয় চান? দ্বীনের জন্য রক্ত ঝরাকে আপনার কাছে ক্ষতি ও লোকসান মনে হয়? আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ের বিপরীত এই রক্তকে অনেক বেশি মনে হয়? রিস্ক ফ্রী দিন আপনি চান? ওয়াল্লাহি! আপনি মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মানহাজ বুঝতে পারেননি।
[ad3]
৯। বলবেন, ‘সেই অভিযানে যারা নিহত হয়েছে তারা সকলেই সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিল না। সকল স্থাপনাও সামরিক স্থাপনা ছিল না’। আপনার এমনটা মনে হচ্ছে, আপনি পশ্চিমা মতবাদে প্রভাবিত মডারেট স্কলার ও তাদের ফিকহ দ্বারা প্রভাবিত হবার কারণে। সালফে সালিহীন ও আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীনের এই সংক্রান্ত বাবগুলো অধ্যয়ন করার সুযোগ আপনার হবে কি? |
.
১০। আপনি তাহলে হামাসের এই অভিযানকে সমর্থন দিচ্ছেন কেন, এর পক্ষে কথা বলছেন কেন? এখানে যে শত্রুদেরকে হত্যা করা হচ্ছে বন্দি করে আনা হচ্ছে তাদের অধিকাংশই তো আপনার ব্যাখ্যা অনুসারে ‘সামরিক’ নয় ‘নিরীহ বেসামরিক’। তাহলে এই দ্বিচারিতা নীতি কেন? এই আনন্দ তো আপনার জন্য নয়! নাকি বিরোধিতা শুধুই বিরোধিতার জন্য?
.
একটু ভাবার সময় হবে কি?!
সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা :-
ফেসবুক পেজ :- ইসলামিক ডায়েরি
ফেসবুক গ্রুপ :- We Are Muslim
টেলিগ্রাম চ্যানেল :- Islamic dayeri
Ai দিয়ে SEO ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখেন একদম ফ্রী।