![]() |
| আলেমদের ডেমোক্রেসিতে অংশগ্রহণের লাভ এবং ক্ষতি কী কী? |
ইসলামপন্থীদের ডেমোক্রেসিতে অংশগ্রহণের পক্ষে একটা যুক্তি বেশ কমন যে ‘সংসদে কিছু ভালো মানুষ যাবার দরকার আছে নইলে সব তো খারাপ হয়ে যাবে।’
কথাটা শুনতে ভালো লাগে। মনে হয়,
তাই তো কয়েকজন আল্লামা কয়েকজন পীর আর কয়েকজন জাতির রাহবার তো সংসদে থাকার দরকার। নইলে অন্যরা সব খারাপ করে ফেলবে।
আসলে বাস্তবতা এর উল্টো।
[ad1]
ধরেন সংসদে তিনশো আসনের মধ্যে ১৮টা সিট হুজুররা পেয়েছেন। তাহলে এটা মোট আসনের কতভাগ? ছয় ভাগ।
আচ্ছা আরেকটু বাড়িয়ে দিই, মন খারাপ না থাকুক। ধরেন ত্রিশটা আসন পেলেন আলেমরা। যদিও এটা ইসরাফীলের বাঁশির আগে সম্ভব না, তাও ধরে নিলাম তর্কের খাতিরে। তাহলে মোট আসনের কত ভাগ হলো ? দশ ভাগ।
[ad2]
বাকি থাকছে কত ভাগ? নব্বই ভাগ।
এরা কারা? অহুজুর অসৎ অআলেম মানুষ যাদেরকে ট্যাকেল দিতেই এই ত্রিশজন আলেম এসেছেন। তাই তো? হ্যাঁ।
আচ্ছা এখানে ডমিনেট করবে কারা? দশ ভাগ নাকি নব্বই ভাগ?
রুলস তৈরি করবে কারা? দশ ভাগ নাকি নব্বই ভাগ?
দেশ চলবে কাদের পলিসিতে? দশ ভাগের নাকি নব্বই ভাগের?
উত্তর আপনারা জানেন। নিশ্চয়ই নিঃসন্দেহে নব্বই ভাগ সবকিছু করবে। দশ ভাগ এখানে জাস্ট শো-পিচ, নাথিং দ্যান মোর।
এখানে একটা কল্পনায় আমরা বসবাস করি। ভাবি, আলেমরা গিয়ে সংসদে জোরসে সমালোচনা করলে বহুকিছু হয়ে যাবে।
একচুয়ালি, এটা রিলস বানিয়ে ছাড়তেই মজা তাছাড়া কিছুই না। পলিসিতে এই সমালোচনার প্রভাব পড়ে না যেখানে অনেক বড় অংশ একমত।
এক সাংসদের ভিডিও প্রায় শেয়ার হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে গালি দিলে উনি মেনে নিবেন না এরকম একটা বক্তব্য দিয়েছিলেন সংসদে। এছাড়া আলেমরা অনেকে সংসদে ছিলেন বহুবার।
আচ্ছা আমাকে বলেন সেকুলার সংসদ কি ব্লাসফেমি আইন পাশ করেছে? আল্লাহর রাসূলকে গালি দেয়া ব্যক্তিকে রাষ্ট্র উল্টো প্রটেক্ট করে যা মানুষ বহুবার দেখেছে।
[ad3]
কিন্তু ওই রিলসটা শেয়ার দিতে আমারও ভালো লাগে আপনারও ভালো লাগে। কিন্তু এরপর পলিসিতে কোনো প্রভাব সেটা রাখে না। বাস্তব উদাহরণ দেখেন।
তাহলে আলেমদের সংসদে গেলে একচুয়ালি লাভ হয় না দেখলাম, কিন্তু কোনো অসুবিধা কি আছে? আছে। প্রবলেমটা কী হয় জানেন? এটা হলো সবচে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।
এই যে সেকুলার সিস্টেম, জুলুমের রাষ্ট্রব্যবস্থা, নব্বই ভাগের অকাজ কুকাজ - এগুলোর একটা বৈধতা পায় এই দশ ভাগ মানুষ এর পার্ট হবার জন্য।
উদাহরণ দেখি। মনে করেন আমি চুরি করতে যাচ্ছি। এখন এরমধ্যে যাতে কাউকে আঘাত না করি গালিগালাজ না করি এগুলো দেখার জন্য একজন আল্লামাকে সাথে নিলাম। উনি সমালোচনা করবেন যাতে আমি চুরিতে ইসলামবিরোধী কিছু না করি।
এখানে চুরি যে ইটসেলফ একটা ইসলামবিরোধী কাজ, এটা কিন্তু আর তখন থাকে না। তখন চুরি বৈধ হয়ে যায়। কারণ যদি চুরি বৈধ না হয় তাহলে কি অমুক আলেম ওখানে যেতেন?
[Labelbox label="গণতন্ত্র ও ভোট" limit="3" type="list"]
এবার প্রশ্নটা আরেকবার পড়েন।
"যদি গণতন্ত্র বৈধ না হয় তাহলে কি আল্লামা *** সেখানে যেতেন? আল্লামা *** কি ভোট দিতে বলতেন?"
ওখানে গিয়ে কিন্তু কিছুই করতে পারিনি। পারবও না। মাঝখান দিয়ে এই সিস্টেমের বৈধতাটা দিয়ে দিলাম। এটাই হচ্ছে আলেমদের ডেমোক্রেসিতে অংশগ্রহণের সবচে বড় এবং ভয়াবহ ক্ষতি।
সিস্টেমের কিছুই পরিবর্তন হয় না, মাঝখান দিয়ে এটাকে বৈধতা দেয়া হয়। আমি যেহেতু আল্লামা, এজন্য আমি যাবার কারণে কেউ সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে সাহস করে না। আর এভাবেই চলে।
[Labelbox label="রাজনীতি" limit="3" type="grid"]
Ai দিয়ে SEO ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখেন একদম ফ্রী।