Advertise your product or brand on this website.Contact Us safelink-generator!

মাদখালি মতবাদঃ এক ভয়ংকর ফিতনার নাম | Marjan Ahmad Chowdhury || Islamic dayeri

আরব রাষ্ট্রগুলোতে কিছু পেইড উলামাও এই কাজ করে থাকেন। আগে এরা ‘দরবারি উলামা’ নামে খ্যাত ছিল। এখন এদের পরিচয় মাদখালি নামে।
Islamic dayeri
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated

 মাদখালি মতবাদঃ এক ভয়ংকর ফিতনার নাম



শাসকদের গুণকীর্তন করার জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রে পেইড মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়। তবে আরব রাষ্ট্রগুলোতে কিছু পেইড উলামাও এই কাজ করে থাকেন। আগে এরা ‘দরবারি উলামা’ নামে খ্যাত ছিল। এখন এদের পরিচয় মাদখালি নামে। ইখওয়ানুল মুসলিমুন যখন মিশরের সেক্যুলার স্বৈরশাসককে হটিয়ে শরীআহ কায়িম করার চেষ্টা করছিল, তখন ইখওয়ানের মোকাবেলা ও আরবের রাজতন্ত্রগুলোকে ইসলামের নাম দিয়ে রক্ষা করার জন্য সালাফি মাসলাকের ঔরস থেকে জন্ম নিয়েছিল ‘মাদখালি’ মতবাদ। এরা নিজেদের ব্যতীত বাকি সব ইসলামী দলকে পথভ্রষ্ট ও বিদআতি মনে করে। তাদের আকীদা এবং দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, সর্বাবস্থায় শাসকের প্রশ্নাতীত আনুগত্য করা, চাই শাসক যালিম ও ফাসিক হোক, চাই সে প্রকাশ্য ইসলাম বিরোধী কাজ করুক। এরা শাসকের বিরুদ্ধে টু শব্দ করাকেও পাপ মনে করে; নিন্দা বা প্রতিবাদ তো বহু দুরের কথা।

[ad1]

মাদখালিরা সালাফি ঘরানা থেকে সৃষ্ট বলে তাদের আনুগত্য শুধু সালাফি শাসকদের প্রতি নিহিত। সেই শাসক চিন্তা, কর্ম, সাদৃশ্য, সম্প্রীতিতে যত দ্বীনহীন-ই হোক, মাদখালিরা তাদের পক্ষে ঠিকই অজুহাত বের করে ফেলবে। ইরান যেভাবে বাশার আল আসাদ ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মিলিশিয়াদের সমস্ত দোষ ঢেকে রাখে কেবল তারা ‘শিয়া’ বলে, মাদখালিরাও সালাফি শাসকদের সব অপরাধ ঢেকে রাখে কেবল ‘সালাফি’ বলে। সালাফি ছাড়া অন্য কোনো মুসলিম শাসকের প্রতি মাদখালিদের সেরকম আনুগত্য নেই। প্রমাণস্বরূপ, মাদখালিরা মিশরের মুহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে ভয়ংকর বিষেদগার করত। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এরা সিসিকে ধন্যবাদ দিয়েছিল। ২০১৬ সালে তুর্কি মিলিটারি যখন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ক্যু করছিল, সে রাতে অনেক মাদখালি এরদোয়ানের বিরুদ্ধে টুইটার গরম করে যাচ্ছিল। তাই মাদখালিরা যখন বলে, “শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না”, তখন তারা কেবল সালাফি ধারার শাসক ও রাজতন্ত্রকে বুঝায়। তাদের কাছে তামাম মুসলমানদের ‘উলুল আমর’ হচ্ছে আরবের শরাবি স্বৈরাচারী রাজা-বাদশারা। কিন্তু কে এদেরকে উম্মাতের ইমাম বানিয়েছে– সেই প্রশ্নের জবাব মাদখালিদের কাছে নেই।

শাসকের প্রশ্নাতীত আনুগত্য করার দলিলস্বরূপ মাদখালিরা সে সব হাদীস পেশ করে, যেখানে রাসূল ﷺ খলীফার আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব হাদীসকে Out of Context কেটে তারা সেক্যুলার স্বৈরশাসকদের ওপর বসিয়ে দেয়। যেখানে সাহাবিরা খুলাফায়ে রাশিদীনের বহু সিদ্ধান্তের সাথে শক্ত দ্বিমত করতেন, অথচ সালাফি শাসকদের সাথে দ্বিমত করামাত্র এই মাদখালিরা মানুষকে খারিজি বলবে। আরব বিশ্বে পশ্চিমা তাবেদারি, শরাব, সিনেমা, কনসার্ট, ক্যাসিনো ও শয়তানি তামাশার সমর্থন করতে না পেরে বহু আলিম আজ জেলে বন্দী। অথচ মাদখালিরা এসব মেনে নিয়ে খুশহাল আছে। তাই আরবের রাজারা এদেরকে দিয়ে রাজতন্ত্রের বিরোধীদের ওপর ফাতওয়া চাপায়, আমেরিকাকে ইসলামের ‘বন্ধু’ বানায়, অবৈধ রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নরমালাইজ করাকে জায়িয করায়, যাবতীয় শয়তানি উন্মাদনাকে তাওহীদের নাম দিয়ে বৈধ বানায়। মাদখালি মতবাদ সালাফি ধারা পার করে আজ অন্য ঘরানাতে প্রবেশ করছে। শাসকের অতিশয় আনুগত্য ও তেলবাজিতে অন্যরাও আজ পিছিয়ে নেই।

[ad2]

আল্লাহর শরীআহকে সমুন্নত রাখা যে কোনো মুসলিম আমীর বা শাসকের আনুগত্য করা অবশ্যই জরুরি। তবে রাসূল ﷺ স্পষ্ট বলেছেন, 

لاَ طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةٍ إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ

“পাপকাজে কোনো আনুগত্য নয়। আনুগত্য কেবল কল্যাণময় কাজে।” (সহীহ বুখারী, ৭২৫৭)

রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমাদের ওপর এমন সব শাসক আসবে, যাদের কিছু কাজ তোমরা ভালো পাবে, কিছু কাজ মন্দ পাবে। যে এই শাসকদের অপছন্দ করবে, সে (গোনাহ থেকে) নিরাপদ। যে এদের বিরুদ্ধাচরণ (أَنْكَرَ) করবে, সে নিরাপদ। কিন্তু যে এসব শাসকের প্রতি সন্তুষ্ট হবে, এদের আনুগত্য করবে (সে অপরাধী বলে গণ্য হবে)” (সহীহ মুসলিম, ১৮৫৪)। আমরা দেখি, হুসাইন রাদ্বি. ফাসিক শাসক ইয়াযিদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শাহাদত বরণ করেছেন। ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদ প্রমুখ আইম্মা যার যার সময়কার মুসলিম শাসকদের ভ্রান্ততার প্রতিবাদ করে যুলমের শিকার হয়েছেন। এরা আমাদের সালাফ। এরা আমাদেরকে শিখিয়েছেন অন্যায় দেখলে চুপ না থাকতে।

[ad3]

গাযযায় অবৈধ রাষ্ট্রের আগ্রাসনের ফলে মাদখালিদের বিভৎস রূপ আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে। আরবের রাজতন্ত্রগুলো ওই অবৈধ রাষ্ট্রটির সাথে আতাত করেছে বলে মাদখালি দালালরা গাযযার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নামে ঘৃণ্য অপবাদ ছড়াচ্ছে। তারা সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী, সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহ প্রমুখের আকীদা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পবিত্র কুরআনের বিপরীতে গিয়ে ‘বহু নবী ইয়া*হূদ ছিলেন’ বলে গল্প পাড়ছে। আল্লাহর লা‘নতপ্রাপ্ত একটি জাতিকে ‘তাওহীদবাদী’ বলছে। আল্লাহর রাহে কিতাল করাকে ‘ফিতনা’ বলছে। কেবল আরব নয়; বাংলাদেশের মাদখালিরাও আজ মাঠে নেমেছে ইয়া*হূদের পক্ষে। তবে বিন সালমান কাল তার অবস্থান পরিবর্তন করলে মূহুর্তের মধ্যে মাদখালিরা তাদের আকীদা পাল্টে ফেলবে। শাসক যতবার পাল্টাবে, মাদখালিরাও ততবার পাল্টাবে। মোটকথা, মাদখালি মতবাদ এমন এক ‘ব্লাংক চেক’, যেখান থেকে সালাফি স্বৈরশাসকরা যখন যত ইচ্ছা ‘ক্যাশ’ করিয়ে নিতে পারে। 


তবে শত চেষ্টা করেও এসব দালালরা ইতিহাসের অমরত্বে নাম লিখাতে পারে না। ইতিহাস স্মরণ রাখে কুফফারের দম্ভ চুর্ণ করে দেওয়া আবু উবাইদাদের। গাযযা আগ্রাসন হাজার মুসলমানকে শুহাদার কাতারে শামিল করছে সত্য, তবে অন্যদিকে খবিসদের পরিচয়কে প্রকাশ করে দিচ্ছে– এটি কম বড় পাওয়া নয়।


لِيَمِيزَ اللَّهُ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ


সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা 

ফেসবুক পেজ :- ইসলামিক ডায়েরি

ফেসবুক গ্রুপ :- We Are Muslim

টেলিগ্রাম চ্যানেল :- Islamic dayeri

Post a Comment

BlogMaster Logo

Blog Master Ai

Ai দিয়ে SEO ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখেন একদম ফ্রী।

📊 ট্রাফিক বৃদ্ধির গ্যারান্টি ভিজিট করুন
Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.