![]() |
| রিকশাওয়ালার রোযা | দ্বিতীয় পর্ব |
এখনো ভুলেনি জামাল আপনজন হারানোর সে যন্ত্রণা। আপনজন হারিয়ে একটা শিক্ষা সে পেয়েছে যে, অহংকার পতনের মুল।
কি ছিলনা তার? বাড়ি গাড়ি মান সম্মান টাকা পয়সা সব কিছুই তো ছিল। আর এটা আজকের সমাজের রীতি যার টাকা থাকবে তার মধ্যে অহংকার জিনিস টা ও শোভা পাবে। জামাল ও তার ব্যতিক্রম ছিলনা। যখন গগভীর রাত, তখন সে মদ্যপান করে বাড়ি ফিরছিল। মদ্যপান বোধ হয় সেদিন একটু বেশিই করেছিল। তাই কোন টা তার বাড়ির রাস্তা সেটাই ঘুলিয়ে ফেলছিল। আশ্চর্য বিষয় সবার যখন ঘুমে বিভোর থাকার কথা তখন ই রাস্তায় লোকজনের কোলাহল। রাত তখন ১ঃ০০ টা বাজে।
ঘোরে কিছু বুঝছিলনা জামাল। এর ই মধ্যে কেউ একজন এসে বলল,
" ভাই একটা লোক এক্সিডেন্ট করেছে । একটু নিয়ে যাবেন?
জামাল লোকটাকে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলে,
_ এটা আমার নিজস্ব গাড়ি। ভাড়ায় চলেনা।
_ ভাই সে যাই হোক একটু নিয়ে চলুন না? লোক টা খুব গুরুতর আঘাত পেয়েছে।
_ আমি কি রাস্তার লোকের জন্য গাড়ি কিনে বসেছি। কে না কে এক্সিডেন্ট করেছে। যা তো দেখি এখান থেকে।
হঠাৎ ঝাপসা চোখে দেখতে পায় সে তার বাড়ির সামনেই এত লোকের আনাগোনা। এক্সিডেন্ট করা মানুষ টা যে আর কেউ নয় তার মা। গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে দেখে তার মা পড়ে আছে উঠোনে। একেবারে মরেই গিয়েছে। বেচারি ছেলেকে খুঁজতে বোধ হয় রাস্তায় এসেছিল। কিন্তু আজ আর তিনি নেই।
[ad1]
জামাল জানে সব কিছু আল্লাহই লিখে রাখে কিন্তু আল্লাহ তো মানুষের কর্মের উপরেই তার ভাগ্য নির্ধারণ করে।
মা' কে যে খুব ভালবাসতো সে। চোখের সামনে নিজের মায়ের লাশ কেই বা সহ্য করতে পারে। মা যে পৃথিবীর সব থেকে আপনজন।
মা মারা যাওয়ার পরেই তার চাচারা জোর করে তার কাছ থেকে সম্পত্তির দলীলে সই করিয়ে নেয়। আর তারপর বাড়ি থেকেই বের করে দেয় তাকে আর জামিলা কে। আজ সে নিঃস্ব। আজ তার কিছু নেই। হঠাৎ করে আবার ও স্পষ্ট হয়ে উঠলো সেই ভয়ংকর অতীত। গুন্ডা মতো লোক টাকে কিছু আর বলতে পারলনা সে।
বাড়ি ফিরে গেল জামাল। বাড়ি গিয়েই দরজায় কড়া নাড়ল। আর তারপর সিয়াম ছুটে গিয়ে দরজাটা খুলল। বাবাকে দেখেই আনন্দে মেতে উঠলো ছোট্ট সিয়াম। এক বুক আশা নিয়েই বাবাকে বলল,
_ বাবা মাংস নিয়ে এসেছো। দাও না বাবা মাংসের প্যাকেট টা আমি গিয়ে মায়ের কাছে দিয়ে আসি।
_ ফোনে যে জামিলার সাথে মাংস কেনার কথা বলেছিল সে কথা তো সিয়াম জানে। আর তাই এক বুক আশা নিয়ে দরজাটা খোলে।
ছেলেকে কি বলবে ভেবে না পেয়ে জামিলার কাছেই গিয়ে প্যাকেট টা দিয়ে আসে জামাল। অবুঝ এই শিশুটি তো আর জানেনা প্যাকেটের মধ্যে মাংস নেই। সারাদিন খুব খুশি ছিল সিয়াম। একটু মাংস খাবে বলে কত আনন্দ করেছে। বড়লোক বন্ধুদের সাথে বলেছে তোরা তো বলিস তোদের মা মাংস রান্না করে আমার মা ও আজ মাংস রান্না করেছে।
[ad2]
এদিকে জামাল যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। বাড়ি এসে কোন কথায় সে বলেনি। জামিলা মাংসবিহীন প্যাকেট দেখেও টু শব্দ টি পর্যন্ত করেনি। ভাত খাওয়ার সময় সিয়াম কে কিই বা বলবে ভেবে কুল পাইনা তার মা বাবা।
অবশেষে সিয়ামের অপেক্ষার অবসান ঘটল। বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা হলো। অবশেষে রাত্রি নামল। বাবার সাথে আজ তারাবি ও পড়তে গিয়েছিল সিয়াম।
মসজিদ থেকে বাড়ি আসার পথে বাবাকে বলেছে বাবা আমি আজ কতদিন পরে মাংস খাবো বাবা। আমার না খুব আনন্দ হচ্ছে জানো!!
সিয়ামের একটা কথার ও কোন জবাব দিতে পারিনি, জামাল। তবে খাওয়ার সময় তো সত্য লুকিয়ে রাখতে পারবেনা সে। আল্লাহ কে বলে,
_ হে আল্লাহ আমার ছেলে কে সঠিক বুঝ দিও।
অবশেষে খাওয়ার সময় আসলো। মাংসের কোন গন্ধ না পেয়ে সিয়াম একটু ভেবেছিল ঠিক। কিন্তু পর মুহুর্তে সেটা ভুলে গিয়েছিল।
খাওয়ার সময় সিয়াম যখন বলল, আমি শুধু মাংস দিয়ে ভাত খাবো মা। তখন জামিলা বলল,
_ মাংস কুকুরে নিয়ে গেছে।
তখন আর জামিল চুপ করে থাকতে পারিনি। জামিলা কে বলল,
_মুমিন ব্যাক্তির জন্য মিথ্যা কথা না। আর বাচ্চাদের কখনো মিথ্যে কথা বলতে নাই। আমি সত্যিই টাকা জোগাড় করেছিলাম। কিন্তু মাংসের থেকে একটা অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা হওয়া বেশি দরকার ছিল। জানো জামিলা হাদিসে আছে, রাসূল সাঃ বলেছেন
" যে লোক রোযা রাখার পর ও মিথ্যা বলা ও খারাপ কাজ ত্যাগ করেনি, তার পানাহার থেকে বিরত থাকায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।
ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
_ তুমি চিন্তা কোরোনা বাবা, দুনিয়াই না হোক জান্নাতে গিয়ে তুমি মাংস খাবে। যারা ভাল কাজ করে তাদের আল্লাহ জান্নাতে দেয়। আর জান্নাতে কোন অভাব থাকেনা।
_ সত্যি বাবা। তাহলে জান্নাতে গেলে আমি মিষ্টি ফল খেতে পারবো?
_ হ্যা। ওখানে কোন খাবারের কষ্ট থাকবেনা।
_ তাহলে আমি আজ এই শাক দিয়েই ভাত খাব বাবা।
একটা মুচকি হাসি দিয়ে শাক দিয়ে ভাত খেয়ে নিল সিয়াম।
[Labelbox label="Siam" limit="3" type="grid"]
।
পরের দিন সকালে আবার রিকশা টা নিয়ে জামাল বেরিয়ে পড়লো। রহমতের এই মাসে আবার ও তার নজরে পড়লো সেই হোটেল। শুধু মানুষ গুলো পালটে গেছে । পালটায় নি হোটেল ওয়ালা। জামালের আগের দিনের কথা গুলো সে কান দিয়ে বের করেই দিয়েছে। আজ অবশ্য রিকশাতে কেউ নেই। তাই আজ আবার ও হোটেলের দিকে ছুটলো। হৃদয়ের মণিকোঠায় প্রভুর সেই আয়াত টা স্বরণ করলো।
আল্লাহ বলেন,
তার থেকে আর কার কথা উত্তম হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে। সৎ কাজ করে এবং বলে নিশ্চয় আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। [সূরা হা মীম সাজদাহঃ ৩৩]
জানে সে আজ হয়ত আবার তাকে কথা শুনতে হবে। কিন্তু মানুষের কথার ভয় তো অনেক আগেই উঠে গেছে। যেখান থেকে দ্বীনের বুঝ পেয়েছে সেখান থেকে শুধু আল্লাহকে ভয় পায় সে। তাই ছুটে চলল হোটেলের দিকে আর বলল,
" যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদের কে শৃঙ্খলা বদ্ধ করা হয়। [বুখারীঃ ১৮৯৮, মুসলিমঃ ১০৭৯]
হোটেল ওয়ালা আবার ছুটে এসে জামাল কে বলল,
" এই ব্যাটা নিজের কাজে যা তো। এখানে এসে হাদিস ঝাড়ছিস কেন?"
জামাল বলল,
" ভাইয়া একটা বই দিচ্ছি আপনাকে পারলে এটা একটু পড়বেন।
হোটেল ওয়ালার হাতে বইটা ধরিয়ে দিয়ে জামাল রিকশা নিয়ে আবার ও পথে বেরিয়ে পড়লো।
[ad3]
সারাদিনের ক্লান্তির পর বাড়ি ফিরল জামাল। বাড়ি গিয়ে দেখে জামিলার মুখে চিন্তার ছাপ। জামিলা কে জিজ্ঞেস করলো,
"কি হয়েছে জামিলা। তুমি এমন চিন্তা করছো কেন"
_ বাড়ি ভাড়া নিতে আসার সময় হয়েছে যে। টাকা তো জোগাড় হলোনা। এবার কি করবেন।
[Labelbox label="story" limit="3" type="grid"]
_ জানিনা, আল্লাহ কিছু একটা ব্যবস্থা করে দেবে তুমি দেখো।
দুজনের কথোপকথন এর মধ্যেই হঠাৎ দরজায় কেউ কড়া নাড়লো। জামিলা ভয় পেয়ে যায়।
ভাবে, ভাড়া তো নিতে এসেছে। এবার কি হবে????
চলবে..........
ইনশাআল্লাহ.........
বিঃদ্রঃ ভালো লাগলে সেয়ার করবেন।
[Labelbox label="রিকশাওয়ালার রোযা" limit="5" type="list"]
Ai দিয়ে SEO ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখেন একদম ফ্রী।