Advertise your product or brand on this website.Contact Us safelink-generator!

রিকশাওয়ালার রোযা | চতুর্থ পর্ব

রিকশাওয়ালার রোযা | চতুর্থ পর্ব
Islamic dayeri
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated

 

রিকশাওয়ালার রোযা | চতুর্থ পর্ব

ইতোমধ্যে পুলিশ ও চলে এসেছে জামাল কে ধরবে বলে। অসহায় ছেলের কাকুতি মিনতি মন ভোলাতে পারলনা পাশন্ড এই মানুষ গুলোর।জামিলার সামনেই জামাল কে পুলিশ নিয়ে গেল। 

[ad1]

নিজের চোখের সামনে নিজের স্বামী কে পুলিশে নিয়ে যাওয়া এমন দৃশ্য কেই বা সহ্য করতে পারে???


জামিলা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। আর সিয়াম কেঁদেই যাচ্ছে। ছোট ছেলে সে কি আর জানে ধৈর্য ধরতে!!!


রাস্তায় এত মানুষ কেউ এগিয়ে এলনা তার কান্না থামাতে............

[ad2]

এদিকে জামিলা এসব দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে ঘটনা স্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। অবশ্য এক যুবক একটা পানির পাত্র এগিয়ে দিল সিয়ামের কাছে। সিয়াম কে বলল তার মায়ের নিকাব টা খুলে চোখে মুখে পানি ছিটাতে। 


কিন্তু না সিয়াম তা করলনা, সে বলল,


_আমার বাবা বলেছে আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিম নারীর উপর পর্দা ফরয করেছেন। তাই আমার মা মুখ খুলবেনা। 


সিয়ামের কথা শুনে পুরা মজলিশ অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লো। আর বলল, রিকশাওয়ালীর আবার পর্দা, হা হা হা।


এ কথা শুনে যুবক ছেলেটি রেগে গেল। বলল,

থামুন আপ্নারা মুর্খের ন্যায় হাসবেন না। আপ্নারা কাকে জেলে ঢুকালেন আপনারা জানেন কি ওই লোকের অসিলায় আমি আমার বাবার সাথে ভাল ব্যবহার করি। ওই লোকের অসিলায় আমি দ্বীনের বুঝ পেয়েছি। আমি একদিন হোটেলে বসে খাচ্ছিলাম। ওনি আমার সামনে একটি হাদিস তুলে ধরেছিল। সেটা শোনার পর পরেরদিন ই রোযা ছিলাম। কি প্রশান্তিময় দিন ছিল সেটা। সেখান থেকে ইসলাম নিয়ে ঘাটাঘাটি করি আর হয়ে উঠি প্রাক্টিসিং মুসলিম।


আমার বাবা একজন দোকানদার যিনি আপনাদের সামনেই দণ্ডায়মান। ওনার সাথে কখনো ভাল ব্যবহার করিনি। করতাম কি করে সর্বক্ষণ তো মদ পান করতাম। যখন জানতে পারি ওটা হারাম, ছেড়ে দিই তখন ওসব ছাই পাস খাওয়া। নিজের বাবা কে আপন করে নিই। আর আজ সেই বাবাই ওমন একটা লোক কে জেলে পাঠিয়ে দিল।

[ad3]

ছেলের কথা শুনে মাংসের দোকানদার চোখের জল সংবরণ করতে পারলনা। সিয়ামের মাথায় হাত বুলিয়ে সিয়ামের কাছে কিছু টাকা দিয়ে বলল,

'যাও এই টাকা দিয়ে ঈদ মার্কেট করে নিও। আর একটা মাংসের প্যাকেট ও দিল। সিয়াম টাকা নিলেও মাংস নেয়নি। 


যে মাংসের জন্য এতদিন অপেক্ষায় ছিল আজ সে মাংস নিলনা। বলল, 

_ আমার বাবা যেদিন নিজে হাতে মাংস কিনে খাওয়াবে যেদিন আমার বাবা কে আমার কাছে পাব সেদিন ই মাংস খাবো। এদিকে জামিলার জ্ঞান ফিরে আসলে দু'জনে বাড়ি ফিরে গেল।


শুরু হয়ে গেল আর ও দুর্দিন.......


ঘরে শুধু আটা ছাড়া কিছু নেই। আর একটু নুন আছে। 

রুটি বানিয়ে দিল সিয়াম কে। 


খাওয়ার সময়_____


_ মা! কোন তরকারি নেই। শুধু রুটি কি করে খাবো। 

_ না বাবা।

_ তাহলে তেলে ভেজে দাও না মা।

_ তেল ও নেই রে বাবা। তুমি ওটা খেয়ে নাও। ওই টাকা ও যে খরচ করতে পারবনা। ওটা দিয়ে যে মার্কেট ই করতে বলেছে।


দুইটা দিন চলে গেল এভাবেই রুটি খেয়ে। কিন্তু এবার আর আটা ও নেই এবার কি করবে মা ছেলে তারা জানে ও না। 

[Labelbox label="story" limit="3" type="grid"]

সিয়াম খেলতে গিয়েছিল বন্ধুদের সাথে। ক্ষুধার জ্বালায় ছেলেটা বাড়ি চলে আসলে জামিলা তাকে পানি খেতে দিল। 

_ মা! মা! পানি খেয়ে পেট ভরেনা তো। অন্য কিছু দাও না তুমি।

_ কিছুই নেই, তুমি ওটা খেয়েই থাকো।


সিয়াম কান্না জুড়ে দিলে জামিলা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সিয়াম কে একটা চড় বসিয়ে দিল। সিয়ামের কান্নার শব্দ আরো বেড়ে গেল।


এবার সিয়াম কে বুকে জড়িয়ে ধরে বলল,

_ আল্লাহর উপর ভরসা রাখো বাবা। তোমার বাবা যে সব সময় বলেছে বিপদে হতাশ হবেনা কোনোদিন। দেখো আল্লাহ নিশ্চয় একটা ব্যবস্থা করে দিবেন। 


সিয়াম কে ঘুম পাড়িয়ে দিল অনেক কষ্টে জামিলা। 


রিকশা টার দিকে তাকিয়ে জামিলের বলা হাদিস টা মনে পড়ে যায় তার।

‘‘যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার

করাবে, সে তার সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ

করবে, তাদের উভয়ের সাওয়াব হতে

বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না’’ [সুনান ইবন

মাজাহ : ১৭৪৬, সহীহ]


জামাল ও যে কাউকে ইফতারি করাতে চেয়েছিল। সামান্য কিছু দিয়ে। কিন্তু আজ সে নেই। জামালের সৃতি বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে তার। জেলের মধ্যে স্বামী কেমন আছে তাও সে জানেনা। কিভাবে বাকি দিন গুলা চলবে তাও সে জানেনা। কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা হারায়নি সে। 


এক গ্লাস পানিতেই সাহরী আর ইফতারি করেই ২ টা দিন চলে গেল জামিলার।

এদিকে জামাল কে জেলের মধ্যে রাতে খেতে দিল ২টুকরা মাংস দিয়ে ভাত।


মাংস দেখে চোখের কোণা টা ঝাপ্সা হয়ে উঠলো.....

এই মাংসের জন্য কত কি হয়ে গেল। আর আজ সে নিজেই মাংস খাবে। নিজের ছেলেকে না দিয়ে???

না তা কি করে হয়???


কেউ একজন বলল,

অনেকদিন পর আজ মাংস দিয়েছে খেয়ে নাও ভাই।

_ না ভাই আমি খাবনা। আমার ছেলে টা অনেক দিন ধরে মাংস খেতে চেয়েছে। জানিনা সে এখন কি খাচ্ছে। আমি মাংস খেতে পারবনা। অন্য কোন তরকারি ও দিইনি। তাই সে লবণ দিয়ে ভাত মেখে খেয়ে নিলো।

এদিকে রাস্তায় সেই হোটেলওয়ালা, দুধওয়ালা, দোকানদার সবার মধ্যে নেমে আসলো শোকের ছাপ। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে যেন আরো বেশিই কষ্ট পাচ্ছে তারা। থানায় গিয়েছিল জামাল কে ছাড়াতে। কিন্তু সাথে সাথে যে তাকে চালান করে দেওয়া হয়েছে। তাই কেউ নিজের কাজে মন বসাতে পারছেনা। জামালের চিন্তাই যেন সবাইকে কাতর করে রেখেছে।


আসলে এমন ই হয় মানুষ যখন নিজের ভুল বুঝতে পারে, তখন অনেক দেরি হয়ে গেলে সে খুব কষ্ট পায়।

রাতের আকাশে চাঁদ কেমন আলো ছড়াচ্ছে। কিন্তু জ্যোৎস্নার আলো জামিলার মন কে যেন আরো স্তব্ধ করে দিয়েছে। প্রতি মুহুর্তে জামালের স্মৃতি তাকে শান্তি দিচ্ছেনা। 


না পারছে জেগে থাকতে, না পারছে দু চোখের পাতা এক করতে।


রাজ্যের চিন্তা তার মাথায়। বাড়ি ভাড়া নিতে আসার সময় ও যে হয়ে আসলো। কিন্তু কাছে কোন টাকা নেই। ২০০০টাকা কোথায় পাবে সে।

পরদিন সকাল হতে না হতেই বাড়ির মালিক হাজির। টাকা নিতে এসেছে। জামিলা সব ঘটনা খুলে বলল,


কিন্তু বাড়িওয়ালার মন ভরেনা। এটাই স্বাভাবিক যাদের বেশি আছে তাদের আরো চায়। সিয়ামের মায়াবি মুখ দেখেও একটু মায়া হয়না তার। 


সব জিনিস পত্র আর রিকশা টা বের করে দিল ঘর থেকে। শুনলনা কারোর কথা। কোথায় যাবে এবার তারা। এই পৃথিবীতে তো যাওয়ার কোন জায়গা নেই তাদের। কি করবে এবার........???


সিয়াম রিকশা টা চালানো শিখেছিল কোনো ভাবে। তাই সে রিকশা চালায়। কিন্তু এত ছোট ছেলে কতক্ষণ রিকশা চালাবে। জোর ৫ মিনিট.........


তাই ই হলো ৫ মিনিট রিকশা চালানোর পর ই থমকে দাঁড়ায় সে। রাস্তায় ই বসে পড়লো তারা কিছুদূর যাওয়ার পরে..........

এদিকে জামাল ও জেল থেকে যেন কি করে ছাড়া পেয়ে গেল। সব আল্লাহর ইচ্ছা..........


জামাল বাড়ি ফিরে আসে জামিলাদের বাড়ি থেকে বের করার১ দিন পর। বাড়ি এসে দেখে বাড়ি একটা বড় তালা ঝুলছে। জানালা দিয়ে দেখে তার ঘরে কিছু নেই। বিষয়টা আন্দাজ করে জামাল ওই স্থানেই বসে পড়ল।

জানেনা এবার ছেলে আর বউকে কোথায় পাবে............

চলবে..........

ইনশাআল্লাহ

[Labelbox label="রিকশাওয়ালার রোযা" limit="5" type="list"]


Post a Comment

BlogMaster Logo

Blog Master Ai

Ai দিয়ে SEO ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখেন একদম ফ্রী।

📊 ট্রাফিক বৃদ্ধির গ্যারান্টি ভিজিট করুন
Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.