![]() |
| রিকশাওয়ালার রোজা (শেষ পর্ব) |
কি নিষ্ঠুর এই সমাজের মানুষ গুলো। বাড়ি ভাড়া দিতে পারিনি বলে বাড়ি থেকেই বের করে দিল।
[ad1]
জামাল পথ চলেছে আর জামিলা, সিয়াম ও পথ চলেছে অজানায়। আজ ২৮ রমযান। আজ তাদের মার্কেটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস মার্কেট করার যৎসামান্য টাকা থাকা সত্ত্বেও মার্কেট করার কোন মন মানসিকতা নেই তাদের।
মুহুর্তের মধ্যে আকাশ ঘন কাল মেঘে ছেয়ে গেছে। ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কোথায় যাবে কি করবে কোনো ঠিকানা খুঁজে পায়না তারা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে একটু ও আশ্রয় খুঁজে পেলনা তারা। কেই বা আশ্রয় দিবে এমন অসহায় গরীবদের। তাও আবার ঝড় বৃষ্টির সময়ে..........
[ad2]
এক বাড়ি গিয়েছিল তো চোর ছ্যছড়া বলে তাড়িয়ে দিল। কেউ বা আবার বাচ্চা অপহরণকারী বলে ছেড়ে দিল। মাথা গোজার ঠাই পেলনা একটু ও কেউ।
ঝড়ের আর্তনাদ মুহুর্তের মধ্যে থেমে গেল। কিন্তু পুরা শহর মুহুর্তের ঝড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে গেল।
শিমুল গাছটির নিচে চাপা পড়ল সিয়াম। অসহায় মা ছেলেকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে খুব চিন্তায় পড়ে গেল। মাথা ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে.......
বেরোবে না কেন শিমুল গাছে যে কাটা থাকে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সিয়াম। অতবড় গাছ পড়ে যেতে দেখে দু চারজন লোক এগিয়ে আসলো। যারা কিছুক্ষণ আগে তাদের ঘরে আশ্রয় দেয়নি তারাও ব্যাপার অনুমান করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
এভাবে সব কিছু শেষ হলে জামিলা কি নিয়ে বাঁচবে। এমন বিপদে ধৈর্য ধারণ করা বড্ড কঠিন। কি জানি আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজেকে সামলে নিল জামিলা। সাথে সাথে রাস্তায় লোক জন জড়ো হয়ে গিয়েছে।
দূর থেকে এত লোকের ভিড় দেখে চমকে ওঠে জামাল।
ভিড়ের মধ্যে অনেক কষ্টে ঢুকে পড়ে দেখে ছেলে পড়ে আছে। থমকে দাঁড়ায় জামাল, সামনে যেন আর পা চলেনা তার। কেমন নির্বাক হয়ে যায় মুহুর্তের মধ্যে.........
[Labelbox label="story" limit="3" type="grid"]
চোখের সামনে হাজার ও স্মৃতি ভেসে ওঠে তার। কি করে সামলাবে নিজেকে। নাহ এটা হতে পারেনা। এটা স্বপ্ন কেন হলোনা......
কেউ একজন বলে উঠলো একে হাসপাতালে নিয়ে কাজ নেই। এ তো মরে গেছে।
খুব কষ্টের সাথে মুখ দিয়ে আওয়াজ বের করে বলে
"ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন"
জামিলা ও জামাল জোরে কাঁদেনা। তারা জানে মৃত ব্যাক্তির জন্য জোরে কাঁদতে নেই। কিন্তু বুকের মধ্যে যে কষ্ট জমা পড়েছে সে কষ্ট কি করে সামলাবে তারা জানেনা।
[ad3]
কত স্বপ্ন ছিল মনের মধ্যে। সব স্বপ্ন নিমিষেই শেষ। ভেবেছিল ছেলেকে বড় একজন আলেম বানাবে আল্লাহর ইচ্ছায়। টাকার জন্য তাকে মাদ্রাসাতে দিতে পারিনি। জামিলা ঠিক করেছিল এবার তার কানের দুল বিক্রি করে একটা সেলাই মেশিন কিনবে। যাতে করে একটা আয়ের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু এটা কি হলো। কি ভেবেছিল আর কি হলো।
মৃত্যু যে কাউকে ছাড় দেয়না। কিন্তু আমরা দুনিয়ার চিন্তায় বেহুশ হয়ে যায়। ভাবি এ খানেই আমাদের চির বাসস্থান।
জামিলা জামাল কে দেখে নিরবে অশ্রু ঝরায়। জামিলার অশ্রুসিক্ত নয়ন জামাল কে আরো ব্যথিত করে।
হঠাৎ করে জামিলার চোখ পড়ে সিয়ামের দিকে, সিয়ামের হাত নাড়ানো তার চোখ এড়ায়নি।
জনস্মমুখে জোরে চিৎকার দিয়ে বলে আল্লাহু আকবার।
সিয়াম কে কোলে করে নিয়ে যায় হাসপাতালের দিকে। এভাবে তাকে দেখে সবাই একটু অবাক হয়ে যায়। জামিলা ও পিছন পিছন ছোটে........
কিন্তু হাস্পাতালে থেমে রইল চিকিৎসা, টাকার জন্য। শখের রিকশাটা বিক্রি করে দিল, সাথে জামিলার কানের দুল টাও।
আজ শেষ রমযান। আজ তারা মার্কেটে গেল........
বড় দোকান থেকে জামা কিনবে এমন সামর্থ্য যে তাদের নেই। রাস্তার একটা দোকান থেকেই জামা কিনবে এমন সময় তার নজরে পড়লো একটা ছোট ছেলের দিকে। যে ছেলেটা খুব কাঁদছিল। ছেলেটার কাছে গিয়ে বললো,
তুমি কাঁদছ কেন?
_ আমি জামা নেব, এরা কেউ আমায় জামা দেয়না।
_তোমার বাবা কি করে।
_ আমার বাবা প্যারালাইজড হয়ে বসে আছে ৫ টা বছর। সে কথা ও বলতে পারেনা। আর আমার মা, সে তো অন্ধ। আমার বোন আর আমি হোটেলে খেটে খায়। আমার বোন আমার থেকেও ছোট। আমাদের যা টাকা হয় তা দিয়ে বাবার ঔষধ কিনতে গিয়েই শেষ হয়ে যায়। জামা কিনব কি করে।
জামাল একটা কম জামা কিনে ছেলেটার হাতে দিলে ছেলেটা বলে।
_ আমার জামা লাগবে না। আমি তো মা আর বাবার জন্য জামা কিনব। আমি আর বোন অন্যের জামা পরেই ঈদ করবো। পুরানো জামা ভাল করে কেঁচে ঈদ করবো। কিন্তু মার যে দুইটা শাড়ি। একটা পরনে আর একটা থাকে। শাড়ি দুটা অনেক জায়গার থেকে ছেড়া।
বাবার তো এক্টাই গেনজি, একটা লুঙি একটা গামছা।
ছোট ছেলের কথা শুনে সব টাকা সে ছোট ছেলেটাকে দিয়ে দিল। ছেলেটা কি যে খুশি হলো।
জামালের চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল গড়িয়ে পড়ছে.......
আর দোকানদার তো এসব দৃশ্য দেখে নিজেই কেঁদে দিল।
যা টাকা ছিল সেই টাকা নিয়েই দোকানদার সিয়ামের জন্য একটা জামা, আর ওই ছোট ছেলের পরিবারের সবার জন্য একটা করে জামা কিনে দিল।
গরীবরা এমন ই হয়। অল্পতে খুব খুশি হয় তারা। আর অন্যের মুখে হাসি ফুটিয়ে ও যে শান্তি লাগে...........
পথ চলতে চলতে জামাল দেখলো সেই হোটেল। যেখান থেকে তাকে অপমান করা হয়েছিল। আজ দেখে সেখানে তাসবিহ টুপির দোকান দেওয়া আর বিভিন্ন ইসলামিক বই সাজানো।
হোটেল ওয়ালা ছুটে আসে জামাল কে দেখে। আর তার হেদায়েতের গল্প শোনায়।
হৃদয়ের গভীর থেকে শুকরিয়া জানায় আল্লাহর কাছে । হোটেল বন্ধ রেখে এমন কাজ করতে পেরে হোটেলওয়ালা ও যেন শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে সে...........
ছেলের কাছে গিয়ে ঈদের জামা দিলে ছেলেটা তার খুব খুশি হয়। জামার নকশা নয়, জামা দেখেই সে খুশি। গরীবদের কাছে ঈদের নতুন জামা মানেই খুশি তা সে যেমন ই হোক না কেন????
জামিলা কে কিছু দিতে পারিনি তাই একটু মনে মনে কষ্ট পায় সে। জামিলা অবশ্য সব কিছু হাসিমুখে মেনে নেয়।
আস্তে আস্তে চলে আসে ঈদের দিন। এখনো মাথা গোজার কোন ঠাই পায়নি তারা। সকালে উঠেই জামাল কে ডাক্তার যে কথা শোনালো তাতে জামাল স্তব্ধ হয়ে যায়। কারণ তার যে আর কিছু করার নেই.........
ডাক্তার বলে,
' এখনো ৩০,০০০ টাকা লাগবে, নাহলে ছেলের চিকিৎসা হবেনা। ঈদের নামাজ পড়ে কাজের সন্ধ্যানে বের হয় সে........
ঈদের দিন কি আর কাজ পাওয়া যায়। জামিলা আশায় থাকে । কিন্তু তারা আশা নিরাশা হয়ে গেল জামাল ঘরে ফিরলে........
ছেলের দিকে তাকিয়ে তারা কাঁদতে থাকে। তারা জানে জীবন মৃত্যুর এই ট্রেন আল্লাহই নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা রাখে। ডাক্তার তো অসিলা মাত্র........!!!!!
হঠাৎ তার পিঠে যেন কেউ হাত দেয়। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে তার আপন চাচা। এটা দেখে যেন সে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেনা..........
জামাল কে দেখে তাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে চোখের জল মুছতে থাকে........
তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়, আর তারপর অপারেশনের টাকা ডাক্তারের হাতে তুলে দেয়.....
সাথে কেড়ে নেওয়া জমির দলিল ও। নিজের ভুল বুঝতে পেরে আজ তিনি অনুতপ্ত। কিন্তু দলিল নিলনা জামাল। বুক ভরা অভিমান যে তার, চাচাকে ক্ষমা করে দিয়েছে । কিন্তু বলল,
' চাচা একটা কাগজ নিজের নামে করে আসলে কোন লাভ নেই। শুধু আমার যে বাড়ি ভাড়া বাকি আছে ওই টাকা টা একটু দিয়েন।
আর বাড়ির এককোণে আশ্রয় দিয়েন তাহলেই হবে..........
কেউ একজন টিফিন বাটি থেকে তিন টুকরা মাংস এনে জামালের হতে দিল..........
মাংস দেখে যেন বুক টা তার আনন্দে বরে উঠলো। আল্লাহ কে বলল,
"তোমার দরবারে হাজার ও শুকরিয়া আল্লাহ। রিজিকের মালিক তুমিই...........
ছেলের কাছে নিয়ে গেলে ছেলে তিন টুকরা নিলনা। বাবা মা' কে ও দিল। তারা খেতে না চাইলেও সিয়াম খাবেনা বলে বায়না করায় খেয়ে নিল..........
ছোট একটুকরা মাংস খেয়ে আজ সিয়াম বড্ড খুশি। আজ যেন পৃথিবীর সব থেকে সুখী মানুষ মনে হচ্ছে সিয়াম কে...........
জামাল আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া জানালো............
রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে নিজের রিপোর্ট টা দেখে কেঁদে উঠলো.......
যে রিপোর্টে লেখা আছে জামাল ক্যান্সারে আক্রান্ত..........
😭😭😭সমাপ্ত😭😭😭
বিঃদ্রঃ সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি গল্পটা অসমপুর্ন রেখে দিলাম। ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
যাই হোক সবাই গরীবদের প্রতি একটু খেয়াল রাখবেন। তারাও আপনার মতোই একজন মানুষ। নিজে বেশি না ভোগ করে তাদের সাথে নিজের আনন্দ টা ভাগ করে নিন, দেখবেন তখন অনেক ভাল লাগবে।
'ভোগে সুখ নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ।
আল্লাহ সবাইকে ভাল রাখুক। আবার নতুন কোন গল্প নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো ইনশাআল্লাহ। সবাই আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। সবাইকে জাজাকাল্লাহু খাইরান। ।
[Labelbox label="রিকশাওয়ালার রোযা" limit="3" type="grid"]
Ai দিয়ে SEO ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখেন একদম ফ্রী।