 |
| আধুনিক ছেলের নেককার স্ত্রী |
দূর মসজিদের
ঐ মিনার থেকে ভেসে আসছে
আসসালতু খইরুম মিনান নাউম //
অর্থাৎ, ঘুম হতে নামাজ উত্তম //
[ad1]
আজানের সুমিষ্ট আওয়াজ
কর্ণকুহুরে প্রবেশ করা মাত্রই
বিছানা ছাড়ে মাইশা //
ঘুম থেকে ওঠে
সে শাহেদ কে নামাজ পড়ার জন্য
ডাকতে গেল //
-এই যে শুনছেন,
ফজরের আজান দিয়েছে
তাড়াতাড়ি ওঠেন //
কি হলো ওঠেন
আর কত ঘুমাবেন???
উঠে...
কথাটা শেষ করার আগেই
মাইশার গালে ঠাস করে
একটা থাপ্পড় মেরে দিল শাহেদ //
[ad2]
তারপর বলতে লাগল
-অসহ্য প্রতিদিন সকালে
ঘুমের ডিস্টার্ব না করলে কি হয় না
হুম???
এই মেয়ে এই তোমাকে নিষেধ করিনি
সকালে ডিস্টার্ব না করতে //
কানে কি কথা যায়না???
একটু শান্তিতে যে ঘুমাবো
সেটারও কোনো উপায় নাই //
আর তোমার লজ্জা বলতে কি
কিছু নাই নাকি হ্যাঁ???
প্রতিদিন সকালে এত
অপমান করি তবুও ডাকাডাকি কর কেন???
মাইশাঃ নামাজ টা পড়ে
আবার নাহয় ঘুমাবেন //
শাহেদঃ চুপ একদম চুপ
একটা থাপ্পড় খেয়েও কি শিক্ষা হয়নি নাকি???
জানো সারাদিন অফিসের
কত কাজ করতে হয় //
দিন রাত অফিসের শত
শত কাজ নিয়ে আমি বিজি থাকি //
তোমার তো শুধু সারাদিন
শুয়ে বসে থাকো তুমি কি বুঝবে //
যাও নিজে গিয়ে নামাজ পড়
অন্যের চিন্তা করতে হবেনা বুঝলা???
বিয়ের জন্য কি আর কোনো
ছেলে পাইছিলে না???
দুনিয়ার সব ছেলে রেখে
আমাকেই বিয়ে করতে হলো তোমার???
আল্লাহ কি পাপ যে করেছিলাম
যার জন্য এমন একটা গেয়ো ভূত
আমার ভাগ্যে জুটেছে //
এই মেয়ের জন্য
আমার পুরা লাইফ বরবাদ হয়েগেল //
কি হলো দাড়িয়ে আছো কেন
যেতে বলছি না???
যাও রুম থেকে এক্ষুনি বের হও //
[ad3]
শাহেদের কথাগুলো শুনে কাদতে
কাদতে বের হয়েগেল মাইশা //
আর শাহেদ আবার ঘুমিয়ে পড়ল //
মাইশা নামাজ আদায় করে
স্বামীর হেদায়েতের জন্য
কেদে কেদে দুআ করল //
তারপর কোরআন তেলাওয়াত করে
সবার জন্য চা বানাতে চলে গেল //
মাইশা চা বানাক
সেই ফাকে আমি ওদের পরিচয় টা
আপনাদের দিয়ে দিই কি বলেন???
আচ্ছা তাহলে শুনেন
আপনারা হয়তো
এতক্ষণে বুঝে গেছেন
মাইশা ও শাহেদ দুজনে স্বামী স্ত্রী //
মাইশা কে বিয়ে করার
কোনো রকম ইচ্ছাই ছিলনা শাহেদের //
শাহেদ মনে মনে ঠিক করে রেখেছিল
ধনী পরিবারের কোনো এক
স্মার্ট মেয়েকে সে বিয়ে করবে //
কিন্তু ওর মা বাবার জন্য
তা আর হলোনা
নিজের ইচ্ছাকে দাফন করে
শেষে এই গেয়ো ভূত কে
বিয়ে করতে হয় তাকে //
[Labelbox label="story" limit="5" type="list"]
শাহেদ মা বাবার একমাত্র সন্তান //
ওর বাবা ঢাকা শহরের নামকরা
ধনীদের মাঝে একজন //
শাহেদ দেশের বাইরে গিয়ে
লেখাপড়া শেষ করেছে //
আর দশ জনের মত শাহেদও
স্মার্ট হয়ে চলা ফেরা করে //
ইসলামিক নিয়ম কানুন গুলো
ওর কাছে বিরক্তিকর লাগে //
অপর দিকে মাইশা গ্রামের
মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে //
যথেষ্ট শিক্ষিতা ইংলিশে অনার্স করেছে //
দেখতেও মাশা আল্লাহ
অনেক সুন্দর তাকে
দেখলে যে কেউ তার প্রেমে পড়ে যাবে //
আচরণও খুব নম্র ভদ্র //
সব সময় সবার সাথে
হাসিমুখে কথা বলে //
জেনারেল শিক্ষিতা হলেও
সে ইসলামের প্রতিটা বিধানের
প্রতি আন্তরিকভাবে আনুগত্যশীল //
সে প্রত্যেকটা বিধানকে স্বাচ্ছন্দ
চিত্তে মানার চেষ্টা করে //
মাইশা একটু অবসর সময় পেলেই
ইসলামিক কিতাব গুলো পড়ে //
ইসলাম সম্পর্কে
আরো বেশি জানার ও মানার চেষ্টা করে //
সে নিয়মিত পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে,
রোজা রাখে,কোরাআন পড়ে ও
খাস পর্দা করে চলে //
মাইশার এই গুণগুলো দেখে
শাহেদের মা বাবার মাইশা কে
খুব পছন্দ হয়ে যায় //
এক পর্যায়ে শাহেদ কে না জানিয়ে
গ্রামে নিয়ে এসে
মাইশার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয় //
শাহেদ ওর মা বাবাকে
প্রচন্ড ভালবাসে
তাই উনাদের কিছুই বলেনা //
কিন্তু সব শোধ তুলে মাইশার ওপর //
যেখানে মাইশার
বিন্দু পরিমাণ দোষ নাই //
তারপরও শাহেদ ওর সঙ্গে
সব সময় বাজে ব্যবহার করে //
মাইশা তবুও রাগ করেনা,
সামান্য প্রতিবাদও করেনা //
প্রতিদিন ফজরে নামাজ পড়ার জন্য
ডাকতে গিয়ে শাহেদের কাছে
অপমান হয় //
তারপরও মাইশা প্রতিদিন শাহেদ কে
নামাজের জন্য ডাকে //
[Labelbox label="আধুনিক ছেলের নেককার স্ত্রী" limit="3" type="grid"]
কারন সে জানে ধৈর্য্যশীল কে
আল্লাহ কখনো নিরাশ করবেন না //
তার বিশ্বাস একদিন না একদিন
আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দিবেই দিবে //
এই আশায় শাহেদের সব অপমান
নিরবে সহ্য করে যাই মাইশা.....
গল্প গুলো শেয়ার করে,,,
অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন //
লাইক কমেন্ট করে,,,
সঙ্গেই থাকুন //